স্ট্যাম্প পেপারে ইচ্ছামৃত্যুর কবিতা

অামি তবুও বেঁচে অাছি,
শুধু যন্ত্রণাটা শেষ করতেই অাত্মহত্যার স্পৃহা জেগেছিলো ।

ভেবেছিলাম স্ট্যাম্প পেপারে ইচ্ছামৃত্যুর কবিতা লিখে যাবো ছন্দ মিলিয়ে।
সে বিনাশের ছন্দের শব্দবাষ্প পৃথিবীর মানুষকে সুখ নাকি অশ্রু দিবে অামার জানা নেই।

স্তব্ধ জীবনে শব্দহীন একাকীত্বে
বিষণ্নতাবোধ অাঁকড়ে ধরেছিলো অামাকে।
অসহ্য অবহেলা অপমানের যন্ত্রনায়
দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে রেখে বেঁচে থাকা যায়না।

আমার শেষ আশ্রয়স্থল ভেবে প্রিয় বান্ধবীর পাশে বসে জীবনের ব্যর্থতার গল্প শুনিয়ে বিষাদের জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু অামার লক্ষ-কোটি দীর্ঘশ্বাসের আত্মচিৎকারে বান্ধবী অামার অাবেগী হয়ে উঠলো,
দুচোখ ভিজে গেলো তার বেদনার অশ্রুতে।

কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে ভেসে অাসলো নিজেরই নির্মম নিষ্ঠুরতার অভুক্ত অতীতের গল্প।
বান্ধবীর বুক ভর্তি হাহাকার অার তপ্ত নিঃশ্বাসে অামার মত পুরুষ পাথর ও ঘামিয়ে গেলো।
চোখের জলে ভিজে গেলো পুরো শরীর,
নরম হয়ে গেলো মন।

অপ্রাপ্তি নিয়ে ফিরে এলেও একটি উত্তর খোঁজে পেলাম অন্তত,
এই শহরে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় অজস্র মানুষ বেঁচে অাছে অামার মত।

অামিও অার কিছুটা দিন বেঁচে থাকি।
সকল নিয়ম-শৃঙ্খল-রীতিনীতির বেড়াজালে মিশ্রিত ক্ষোভ, বিতৃষ্ণা,অপমানের অদৃশ্য দেয়ালে লিখে যাবো ইচ্ছামৃত্যুর কবিতা।

প্রতিটি কবিতাই হবে অামার অাত্মহত্যা।

(অবসর-মার্চ ২০১৮)

বিবাহিতাকে – জয় গোস্বামী

তোমার ভিতরে একটা বুনো ঝোপ দেখতে পাই।
ওই ঝোপে একটা মৃতদেহ ঢাকা দেওয়া আছে।
অনেকদিন ধ’রে আছে। কিন্তু আশ্চর্য যে
এই মৃতদেহ জল, বাতাস, রৌদ্র ও সকলপ্রকার
কীট-বীজাণুকে প্রতিরোধ করতে পারে। এরপচন নেই।
বন্য প্রাণীরাও এর কাছে ঘেঁষে না।
রাতে আলো বেরোয় এর গা থেকে।
আমি জানি, মৃতদেহটা আমার।
কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, এই জারিজুরি এবার ফাঁস হওয়া প্রয়োজন।
আর তা হবেও, যেদিন চার পায়ে গুঁড়ি মেরেগিয়ে
পা কামড়ে ধ’রে, ওটাকে, ঝোপ থেকে
টেনে বার করব আমি।

জয় গোস্বামী

একাকীত্ব

বাতাসে ভেসে আসা অনুরণন
হঠাৎ কেঁপে উঠা তপোবন
নিঃশেষ হবে লাল গালিছা
ফুরাবে অপেক্ষার পালা।

আসবে আগুন খেয়ে ফেলা ড্রাগন
অতৃপ্ত আত্মা ছুটে পালাবে পৃথিবী
পালাতে চাও?
পথ খুঁজে পাবে তো?
ক্যাফেটেরিয়ায় বসে একাকীত্বে ভুগা
হাইড্রা কাটবে আপন মাথা।

শাহ্‌জাদা আল-হাবীব
২০.০৪.২০১৭

কবিতা

নিঃসঙ্গতা

একা ছিলাম, একা আছি, একাই চলছি বেশ
বিষাদ ছিলো, বিষাদ আছে, বিষাদের নাই শেষ
বিষাদ হলো নিত্যসঙ্গী ; বিষাদ আলোছায়া
বিষাদ যেন আগলে রাখে, বিষাদ মহামায়া।

মন মাজারে দুঃখ রাখি, আগলে রাখি কষ্ট
পুষ্প ফুটবে আশায় থাকি, হয়নি স্বপন নষ্ট
কালের গর্ভে বিলীন হলো কত কথা গল্গ
সুখের দিন হয়না স্থায়ী, থাকে খুবই অল্প
জীবন নদের অথৈয় জল সদা বহমান
একা তরী চলছে চলুক; থাকুক চলমান।

শাহ্‌জাদা আল-হাবীব
১২.০৪.২০১৮

কবিতা

বিষাদী মন

হৃদয়পুরে আগুন জ্বলে, পুড়তে থাকি রোজ
মাসের পর মাস চলে যায়, কেউ রাখে না খোঁজ
বিষাদ বিকেল, বিষাদ সন্ধ্যে, বিষাদ মাখা রাত
বিষাদময় ধরণী আমার, বিষাদী হয় প্রাত
বিষাদ নদী, বিষাদ সাগর, বিষাদ হলো আকাশ
বিষাদ হৃদয় নিঃশব্দে কাঁদে, করেনা প্রকাশ।

প্রতিদিনই চলতে থাকি, চলছি বিষাদ মেখে
পতিত মন হয় যে বিষাদ, শুণ্য হৃদয় দেখে
ভোরের রবি উঠে যখন নদীর ওপর পাড়ে
একাকী প্রাণে বিষাদ তখন কেবল আরো বাড়ে।

এই শহরের হাজার চোখে কতো বিষাদ মাখা
তবুও মুখে হাসি রেখে হচ্ছে সবই ঢাকা।
আগুন লেগে সব পুড়েছে, চলছে এখন খরা
তারো উপর যোগ হয়েছে তোমার অবহেলা।

শাহ্‌জাদা আল-হাবীব
১০.০৪.২০১৮

কবিতা

ফেরিওয়ালা

কষ্ট নেবে কষ্ট
হরেক রকম কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট।

লাল কষ্ট নীল কষ্ট কাঁচা হলুদ রঙের কষ্ট
পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট,
আলোর মাঝে কালোর কষ্ট
মাল্টি কালার কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট।
ঘরের কষ্ট পরের কষ্ট পাখি এবং পাতার কষ্ট
দাড়ির কষ্ট
চোখের বুকের নখের কষ্ট,
একটি মানুষ খুব নীরবে নষ্ট হবার কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট।
প্রেমের কষ্ট ঘৃণার কষ্ট নদী এবং নারীর কষ্ট
অনাদর ও অবহেলার তুমুল কষ্ট,
ভুল রমণী ভালোবাসার
ভুল নেতাদের জনসভার
তাসের খেলায় দুইটি জোকার নষ্ট হবার কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট।
দিনের কষ্ট রাতের কষ্ট
পথের এবং পায়ের কষ্ট
অসাধারণ করুণ চারু কষ্ট ফেরীঅলার কষ্ট
কষ্ট নেবে কষ্ট।
আর কে দেবে আমি ছাড়া
আসল শোভন কষ্ট,
কার পুড়েছে জন্ম থেকে কপাল এমন
আমার মত ক’জনের আর
সব হয়েছে নষ্ট,
আর কে দেবে আমার মতো হৃষ্টপুষ্ট কষ্ট

Poem

একজন 'তুমি'

একজন ‘তুমি’ এর জন্য এতো প্রতীক্ষা
শুধু তার তার জন্য এতো উদ্বেগ
কতো মহা আয়োজন
কতো প্রস্তুতি; হৃদয়পুরের মহাযজ্ঞ
চলছে দিবারাত্রি
সে আসবে বলে নিস্তার নেই কোন
সব কিছু প্রস্তুত ;
সে যখন আসবে
তখনই সাদরে বরণ করা হবে।

যার জন্য এতো আয়োজন
সে কি জানে?
কিছুটা কি আঁচ করতে পেরেছে?
সে না জানুক ,
তবুও একবার আসুক
এসে দেখুক;
কতেটুকু মলিন হতে পারে আকাশ
বিষাদে কতোটা নীলাভ হৃদয়পুর।

শাহ্জাদা আল-হাবীব
২৮.০২.২০১৮

কবিতা