ট্যাগসমূহ » ভবঘুড়ি

ঘুড়ি যখন পাতালে (শেষ পর্ব)

(আর্থিস্ট এর ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা কল্পগল্পের শেষ পর্ব। শিল্পী ও ছবির লিঙ্ক পাওয়া যাবে পোস্ট এর শেষে।)

এরপর যেই ভাবা সেই কাজ। ঠিক সন্ধ্যের মুখে মুখে দু’জনে বেরিয়ে পরলো। সেসময় জঙ্গলের নিশাচর প্রাণীরা সবে জেগে উঠতে শুরু করেছে, শিকারের ক্ষুধায় নিস্তব্ধতা ফুঁড়ে হঠাৎ হঠাৎ ডেকে উঠছে কোন হিংস্র প্রাণী। ঝিঁ ঝিঁ পোকার একটানা ডাকও কেমন থমকে থমকে উঠছে। এর মাঝে ঘুড়ির পকেটে রয়ে যাওয়া ছোট্ট টর্চের আলোয় গোপন সুড়ঙ্গে প্রবেশ করলো দু’জনে। 806 more words

ভ্রমণ

ঘুড়ি যখন পাতালে (পর্ব-২)

(আর্থিস্ট এর ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা কল্পগল্প। শিল্পী ও ছবির লিঙ্ক পাওয়া যাবে পোস্ট এর শেষে।)

সুড়ঙ্গ ধরে ঘুড়ি হাঁটতে শুরু করলো। সুড়ঙ্গটা মানুষের জন্যে বানানো হয়নি। উচ্চতা একেক জায়গায় একেক রকম। কোথাও ঘাড় কাত করে, কোথাও মাথা নীচু করে কোথাওবা হামাগুড়ি দিয়ে এঁকেবেঁকে সামনে এগুতে লাগলো ঘুড়ি। সুড়ঙ্গের গায়ে লেগে থাকা কাদামাটি মেখে গেল ঘুড়ির সারা শরীরে। ছাদে ঝুলে থাকা মাকড়শার জাল কোথাও কোথাও উড়ে গিয়ে জুড়ে বসলো মাথায় – চুলে। শেষমেশ ঘুড়ি যখন সুড়ঙ্গ পেড়িয়ে একটা খোলা জায়গায় পৌঁছলো, তখন তার চেহারা হয়েছে দেখার মতো। তাকে তখন আর মানুষ নয়, বনমানুষ মনে হচ্ছে! 431 more words

ভবঘুড়ি

ঘুড়ি যখন পাতালে (পর্ব-১)

(আর্থিস্ট এর ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা কল্পগল্প। শিল্পী ও ছবির লিঙ্ক পাওয়া যাবে পোস্ট এর শেষে।)

ঘুড়ি হাঁটছে। তপ্ত রৌদ্রে ঘুড়ির কপালে দু’এক ফোঁটা ঘাম জমে উঠে পড়ি পড়ি করছে। নীল আকাশে মেঘটেঘের কোন বালাই নেই। মাথার উপর জ্বলজ্বলে সূর্যটা একাই সারা আকাশ দখল করে রেখেছে। এই কাঠফাটা রৌদ্রেও একটা ঘাসফড়িং মনের সুখে গাছের এক পাতা হতে অন্যপাতায় খাবারের খোঁজে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। জঙ্গল জুড়ে কোন একটা পোকার অবিরাম ঝিঁঝিঁ ডাক। একটা লতানো পাতা ঘুড়ির পা ছুঁয়ে সরে গেল। আরেকটু হলে পড়ে যেতে হতো। হাঁটার গতিটা একটু কমিয়ে ঘুড়ি একবার আকাশের দিকে দেখে নিলো। সাথে পানিও বেশী নেই। সূর্য নামতে এখনো ঢের দেরী আছে। রাস্তার পাশ দিয়ে খাদ নেমে গেছে নীচে, তাকালে শুধু গাছ গাছালির জঙ্গল দেখা যায়। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে বোঝা যায় জঙ্গলের নীচে দিয়ে ঝিরি বয়ে গেছে। জঙ্গলের ছায়ায় বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা হয়ে আছে নিশ্চয়ই জায়গাটা? 506 more words

ভ্রমণ

শ্রাবণী মেলায় ভূতুরে শহর - ১

পর্ব – ১ 

রাত তখন ১১ টা মতন হবে। মাটিতে বিছানো ছেঁড়া মাদুরটাতে শুয়ে আমি মোমবাতির আলোয় দেয়ালে পড়া ছায়ার নাচন দেখছিলাম। প্যাকেটে সিগারেট বাকি আছে মাত্র পাঁচটা কিন্তু তেষ্টাটা হিসাব নিকাশ মানতে চাইছে না। ঘাড় ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে আকাশে চাঁদটাকে খোঁজার চেষ্টা করলাম। কোন লাভ হল না। ছোট ছোট পাহাড়গুলোর পেছনে আকাশটা কিছুটা উজ্জ্বল। চাঁদটা উঠি উঠি করেও উঠছে না। ঘরটার ভেতরে কাঁথা-বালিশ, আমি আর আমার ব্যাগটা ছাড়া আর আছে কেবল এদিক ওদিক ছড়ানো কিছু ভাঙ্গা ইটের টুকরা আর ধুলোবালি। দু’টো চারটে মাকড়শার বাচ্চা দেয়ালের কোনায় থাকলেও থাকতে পারে তবে আপাতত তাদের দেখা যাচ্ছে না। ভূমিকম্প উড়িয়ে নিয়ে গেছে বিল্ডিং এর ভেতরে এককালে চলতে থাকা জমজমাট স্কুলটাকে। চারতালা ভবনের প্রায় তিরিশখানা রুম এখন শ্মশানঘাটের মত নিস্তব্ধ থাকে। নিচের তালায় থাকে বিল্ডিং এর মালিক; আমার আশ্রয়দাত্রীর পরিবারবর্গ। উপরের তালাগুলোতে ভয়ে কেউ থাকতে চায় না। কোন এক থামে নাকি ফাটল ধরেছে। পুরো বিল্ডিংটাই সারাতে হবে। এই পোড়া জমানায় কারই বা এতো টাকা আছে? 947 more words

ভ্রমণ

মানুষ নাকি ভাইরাস?

বিমানে উঠার সময়ই খেয়াল করছিলাম, আশেপাশে যাত্রীদের মধ্যে বেশ একটা স্ল্যাভিক ভাবসাব দেখা যাচ্ছে। দেহের গড়ন হাট্টাগাঁট্টা, চোখ আর চুলের রঙ কালো, ত্বকের রংটাতে একটু ফ্যাকাশে লালচে ভাব আর ইংরেজীতে স্ল্যাভিক টান স্পষ্ট। বেশ মজাই লাগে এমন ভিন্ন ধরণের ইংরেজী শুনতে। পরিচয় হলে জিজ্ঞাসা করবে, হাউ দু ইউ দু? 860 more words

ভ্রমণ

চিরকুমারী সঙ্ঘ

“সব দোষ ওই পুঁজিবাদের!” বলে নিদারুণ জোশের সঙ্গে টেবিলে এক কিল মেরে বসলো চেশনা ইয়ানোভিচ। কসোভোর মেয়ে চেশনার চেহারার গঠনটা একটু কাঠখোট্টা ধরণের। গলাটাও বাজখাঁই, জোরে চেঁচালে পাহাড়ের ওই পাড় পর্যন্ত শোনা যাবে নিশ্চিত। তর্ক বাঁধালে কখন যে মেরে বসবে এই ভেবে ভয় হয়। এমন একটা মানুষের জোশে মারা কিলে বেশ জোর থাকাটাই স্বাভাবিক। টেবিলে রাখা চায়ের কাপ আর বাকি সব গ্লাসগুলো কেঁপে উঠলো কিছুটা ভয়ে আর কিছুটা প্রাকৃতিক নিয়মের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক অনুযায়ী। 2,009 more words

ভ্রমণ

ভ্রমণপিপাসু মন (৩)

ভ্রমণপিপাসু মন (২) এর পর,

লালন ফকির অথবা মায়া অ্যাঞ্জেলো যদি ১৪ শ শতাব্দীর মানুষ হতেন আর কলোম্বাস কিংবা ভাস্কো ডা গামার আমারিকা ও ভারতবর্ষে পৌঁছার পূর্বেই এক বিশাল জাহাজ ভর্তি ক্ষমতায়নের মাল-মশলা নিয়ে চলে যেতেন ইউরোপে তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াতো? 876 more words

ভ্রমণ