ট্যাগসমূহ » বাংলা

দুই ছোট্ট ভদ্র মেয়ের গল্প

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হবার কারণে আমাকে অনেকদিন পর্যন্ত পরিবারের উপর নির্ভর হয়ে থাকতে হয়েছে কিংবা বলা যায় পরিবারের লোকদের অতিরিক্ত ভালবাসার কারণে একা চলার সুযোগ পাইনি। কৈশর পেরোনোর পর আর দশটা ছেলে মেয়ের মত আমারও চিন্তা হয়েছিল নিজে নিজে চলা ফেরা করার। তবে সুযোগ হয়ে উঠেনি। কিন্তু হঠাৎই বাবার মৃত্যুর পর অনেকটা জোর করেই আমি নিজে নিজে চলা শুরু করি। বাবা থাকা অবস্থায় আমার সব সময়ের সঙ্গী ছিলেন তিনি। তিনি চলে যাবার পর চিন্তাটা মাথায় আসে, “কেউ যখন থাকবে না তখন আমার কি হবে?” এই চিন্তা থেকেই আত্মনির্ভরশীল হওয়া শুরু করি। কিন্তু কাজটা সহজ ছিল না। একমাত্র আম্মাই ছিলেন আমার এই পথের বাঁধা। আমাকে একা ছাড়াতে তার তীব্র ভয়। কিন্তু বড় আপা আর ছোট আপা আমার সাথে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত স্বাধীন ভাবে চলা ফেরা করার সুযোগ হয়।

সেই থেকেই আমার পথে ঘাটে ঘুরে ফেরা। কাজে-অকাজে এদিক সেদিক যাওয়া। আর তখন থেকেই আমার জীবনে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা জমতে শুরু করে।

বাংলাদেশের যে কোন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য যদি তার বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা লেখা শুর করে তাহলে কোন ভাবেই গণপরিবহন বাদ দিতে পারবে না। বিশেষ করে আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনে ‘বাস’ একটা বিশাল জায়গা জুড়ে আছে। আমারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে আমার সেই অভিজ্ঞতাগুলো বেশ বৈচিত্র্যময়।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বসে বসে চলি, তাই বাসে উঠার পর কোন ভাবেই দাঁড়িয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। সেজন্যই বাসে উঠা মাত্রই একটা সিট খুঁজে নিতেই হবে। বেশীর ভাগ সময় সিট পেয়ে যাই। যদি না পাই? এক্ষেত্রে বাসের কন্ডাক্টর ম্যানেজ করে দেন কিংবা কোন যাত্রি স্বেচ্ছায় সিট ছেড়ে আমাকে বসার সুযোগ করে দেন। এই যে স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়া যাত্রীদের কথা বলছি তাদের মাঝে সব সময় পুরুষই থাকে। এটা নিয়ে আমার কিঞ্চিত ক্ষোভ আছে বৈ কি।

প্রায় প্রতিটি বাসেই ‘নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের’ জন্য নির্ধারিত সিট থাকে। যদি কখনো পুরো বাস ভরা থাকে তাহলে কখনোই সেই সিটে বসে থাকা কোন নারী সিট ছেড়ে দেয়নি। এর পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি থাকতে পারে সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু সেই সিটে আমাদেরও যে অধিকার আছে সেটা নিশ্চয় ভুল না?

কিন্তু কালকে যেন খোদা তা’আলা সেই ক্ষোভ দূর করার জন্য ব্যবস্থা করেই রেখেছিলেন।

শুক্রবার! বেশী লম্বা সময় ধরে ঘুমিয়ে তার পর উঠব এমনটাই পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু যেদিন কাজ থাকে সেদিন তো উঠতেই হয়। কালকে জমিজমা সংক্রান্ত মিটিং ছিল। তাই বাধ্য হয়েই সকাল সকাল উঠে বের হতে হয়েছে। এই শীতের মধ্যে সকাল সকাল উঠে আজিমপুর থেকে সেই ভাষানটেক যাবার জন্য ঘরে থেকে বের হওয়াটা এক প্রকার শাস্তিই বলতে হবে।

তার পরও! পরিবারের কাজ বলে কথা। উঠে গেলাম। প্রথম বাস থেকে নেমে মিরপুর ১০ থেকে দ্বিতীয় বাসে উঠতে হয়। ঐ বাসগুলো হয় একেবারেই লোকাল, ভাঙ্গাচুরা টাইপ। এমন একটা বাসে খুব দ্রুত উঠে গেলাম। উঠেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। ইঞ্জিনের পাশে ছাড়া কোন সিট নেই। ইঞ্জিনের পাশের আলগা ঐ সিটে বসে থেকে পিঠ ব্যাথা করার কোন ইচ্ছে হল না। তাই পেছনের দিকে কোন সিট আছে কিনা দেখার জন্য রওনা দিলাম। দুই সিট পার হতেই এক ছোট্ট মেয়ে নিজের সিট ছেড়ে দিয়ে বলল এখানে বসেন। তাকিয়ে দেখি সর্বোচ্চ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া মেয়ে হবে। তাকে দাঁড় করিয়ে রেখে বসার কোন ইচ্ছেই আমার হল না। তাই তাকে বসতে বলে বললাম, “আমি পেছনে যাচ্ছি, সিট পাবো।” এই বলে আরেকটা সিট পার হতেই আরেকটা মেয়ে একেবারে সিট ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আমি সামনেই নেমে যাবো, আপনি বসেন।” সে এমন ভাবে সেট ছেড়ে সরে গেলে যে আর না বসে পারলাম না। চেয়ে দেখি এই মেয়েটাও খুব বেশী বড় না। সবে মাত্র নবম শ্রেণিতে উঠা কিংবা দশম শ্রেণী পড়ুয়া। চারদিকে চেয়ে দেখি সিট খালি পাবার সুযোগ দেখা যাচ্ছে না। তাই বসে গেলাম।

বসে তো গেলাম, কিন্তু মনা খচ খচ করছিল। মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। এমনিতে নারী হোক বা পুরুষ, আমার জন্য এই ধরণের ত্যাগ স্বীকার করে কেউ দাঁড়িয়ে থাকবে এটা আমার ভাল লাগে না। সাধারণ ভাবে আমি আমার কারণে কাউকে অস্থির হতে কিংবা কষ্ট করতে দেখলে একটু বিব্রত হই। তাই চারিদিকে তাকাচ্ছিলাম কোন ব্যবস্থা হয় কিনা দেখার জন্য। এখন যেহেতু সিটে বসা তাই একটু উপর থেকে দেখতে পাচ্ছিলাম। পাশের সিটের দিকেই তাকিয়ে দেখি এক ভদ্রলোক দুই সিট নিয়ে মাঝ বরাবর এমন ভাবে বসে আছে যে আমি বসে থেকে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি এখানে একটা সিট খালি আছে। গেল মেজাজটা খারাপ হয়েছে। যখন তার পাশে দাঁড়িয়েই সিট খুঁজছিলাম তখন তার উচিৎ ছিল একটা আওয়াজ দেওয়া। কিন্তু তিনি নিশ্চুপ।

কিন্তু আমি নিশ্চুপ থাকলাম না। তাকে ভেতরে ঢেলে দিয়ে বসে গেলাম। আর দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে ডেকে বললা, “আপা! আপনি এখানে বসতে পারেন।” তিনি আর দেরি না করে তার আগের স্থানে এসে বসলেন।

বাস ততো ক্ষণে চলা শুরু করেছে। বসার পর একটু স্থির হয়ে দেখা শুরু করলাম কোন দুইজন আমার জন্য সিট ছেড়ে দেবার চেষ্টা করেছে। একটু খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। আগ্রহের কারণ ঐটাই। কোন মেয়ে তো সিট ছাড়েনি এখন পর্যন্ত! অনেক আগের এক ছোট্ট ছেলের কথা মনে পড়ল। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। এত চমৎকার ভাবে আমার জন্য সিট ছেড়ে দিয়েছিল যে আমি যতবারই কাউকে নম্রতা আর ভদ্রতার উদাহরণ দেই, তার নাম উচ্চারণ করি। এবার নতুন করে দুইজন আমাকে চমকে দিল। তাই আগ্রহটা ঐ রকমই ছিল।

খুঁটিয়ে দেখে নিশ্চিত হলাম প্রথম দর্শনে তাদের বয়স যা চিন্তা করেছিলাম তার চাইতে বেশী না। কিন্তু এই বয়সেই তাদের মাঝে এমন কিছু গুণ তৈরী হয়ে গিয়েছে যা তাদেরকে অনেক বয়স্ক বড় মানুষের চাইতে বড় করে তুলেছে। মুগ্ধ হলাম তাদের কথা চিন্তা করে। নিশ্চয় তাদের পরিবার থেকে এমন শিক্ষাই তারা পেয়েছে। তাই মনে মনে বাবা-মার প্রশংসা না করে পারলাম না। ধন্য তারা! শিষ্টাচারের এমন উদাহরণ তৈরী করতে পেরেছেন। আর দুইজনের জন্য মন ভরে দোয়া করলাম যাতে আল্লাহ তাদের উত্তম যাঝাহ প্রদান করেন।

কালকের দিনটা সত্যিই ভুলবো না। মনের মাঝে যে ক্ষোভ ছিল তার সবটুকুই দূর হয়ে গিয়েছে। দুই ছোট্ট ভদ্র মেয়ে শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে কয়েকজনকে দিয়ে পুরো সমাজটাকে বিচার করতে হয় না।

নিজে নিজে পুরো বাসে অনেক কিছু চিন্তা করছিলাম। ভাবছিলাম এমন নতুন প্রজন্ম যদি ঘরে ঘরে তৈরী করা যায় তাহলে দেশটাকে ইতিবাচক ভাবে বদলে দিতে কি খুব বেশী কষ্ট করতে হবে?

বাংলা

আরাকানে মুসলমানদের ২০০ বছরের 'স্বর্গরাজ্য'

আরাকানে মুসলমানদের ২০০ বছরের ‘স্বর্গরাজ্য’ শিরোনামে ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৪:৪৮ এ দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত।

লেখক: মেহেদী হাসান

মধ্য যুগে দুই শ’ বছর পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের আজকের রাখাইন বা আরাকান রাজসভা। মহাকবি আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশি মাগন ঠাকুর, নসরুল্লাহ খান এরা সবাই ছিলেন আরাকান রাজ্যের সভাকবি বা রাজদরবারের কবি। আজকের যে বাংলা সাহিত্য তার অন্যতম ভিত্তি আরাকানের রাজসভা। ১৫ শ’ সালের শুরু থেকে ১৬ শ’ সালের শেষ পর্যন্ত আরাকানের রাজসভা স্মরণীয় হয়ে আছে বাংলা সাহিত্য চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য। দীর্ঘকাল আরাকান রাজ্য পরিচালিত হয় ইসলাম ও মুসলিম ঐতিহ্য অনুসারে। আরাকানের ওপর ইসলাম ও মুসলমানদের প্রভাব এতটাই ছিল যে, শত বছরেরও অধিক সময় আরাকানের অমুসলিম শাসকেরা মুসলমান নামের উপাধি গ্রহণ করে শাসন কার্য পরিচালনা করতেন। প্রাচুর্যে ভরপুর ফুলে ফলে সুশোভিত স্বর্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হাজার বছরের স্বাধীন আরাকান রাজ্যের অনেক রাজা ও অমাত্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তাদের উদার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য। বাংলা সাহিত্য তাই ঋণী আরাকানের রাজসভার কাছে। পদ্মাবতী, চন্দ্রাবতী, সতী ময়না লোর চন্দ্রানী, হপ্ত পয়কর, সয়ফুল মুলক বদিউজ্জামান, শরিয়তনামা, দারা সেকেন্দারনামার মতো অনেক কালজয়ী কাব্য, মহাকাব্য রচিত হয়েছে আরাকানে। এসব কাব্যে উঠে এসেছে আরাকান রাজ্যের অনেক অজানা ইতিহাস মুসলমানদের গৌরবময় অধ্যায়।

আরাকান রোসাঙ্গ বা রোসাঙ্গ রাজ্য নামেও পরিচিত। তখনকার কবি সাহিত্যিকেরা আরাকানকে রোসাঙ্গ রাজ বলে অভিহিত করেছেন।

১৬ শতকের কবি দৌলত কাজীর ‘সতী ময়না লোর চন্দ্রানী’ কাব্যে রোসাঙ্গ রাজ বা আরাকানের পরিচয় ফুটে উঠেছে এভাবে, ‘কর্ণফুল নদী কূলে আছে এক পুরী, রোসাঙ্গ নগর নাম স্বর্গ অবতারি। তাহাতে মগধ বংশ ক্রমে বুদ্ধাচার। নাম শ্রী সুধর্ম রাজা ধর্ম অবতার।’

এ কাব্যে আরো উল্লেখ করা হয়েছে আরাকানের রাজা সুধর্ম ছিলেন খুব শক্তিশালী। তার ১৫ শ’ হাতির এক বিশাল বাহিনী ছিল। আর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ‘অযুতে অযুতে সৈন্য অশ্ব নাহি সীমা।’

এ কাব্যগ্রন্থ রোসাঙ্গ রাজসভার লস্কর উজির আশরাফ খানের অনুরোধে রচিত হয়। এ কাব্য পর্যালোচনা করে অনেক ইতিহাস গবেষক বলেছেন বার্মার মগরা ভারতের মগধ রাজ্য থেকে সেখানে গেছে এবং ক্রমে বৌদ্ধ ধর্মে দিক্ষিত হয়।

মহাকবি আলাওলের কর্মজীবন কেটেছে আরাকানে। তার মৃত্যুও হয় সেখানে। তিনি ছিলেন আরাকানের অশ্বারোহী বাহিনীর সদস্য। অনন্য সাধারণ কাব্য প্রতিভার গুণে শেষ পর্যন্ত তিনি আরাকানের সভাকবি হন। তার সময়েই মোগল সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ সুজা আশ্রয় নেন আরাকানে। ভাই সম্রাট আরোঙ্গজেবের সাথে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে তিনি আরাকানে আশ্রয় নেন। আরাকানের তরুণ রাজা তখন চন্দ্র সু ধর্মা। তিনি মুগ্ধ হন শাহ সুজার মেয়ে আমিনাকে দেখে। তাকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু রাজি হননি শাহ সুজা। এ নিয়ে সৃষ্ট সঙ্ঘাতে শেষ পর্যন্ত শাহ সুজা তার স্ত্রী, তিন ছেলেমেয়ে ও প্রায় দেড় হাজার অনুচরসহ নির্মমভাবে নিহত হন। এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মহাকবি আলাওল। এমনকি শাহ সুজার পক্ষ অবলম্বনের দায়ে আলাওলকেও জেলে নেয়া হয় তখন। সে ঘটনা কবি আলাওল বর্ণনা করেছেন সয়ফুল মুলক বদিউজ্জামান কাব্যগ্রন্থে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন মির্জা নামক এক পাপিষ্ঠের ষড়যন্ত্রে তার মতো অনেককেই তখন জেলে যেতে হয়েছিল। শাহ সুজা হত্যার পর অস্থিরতার সুযোগে অনেক ষড়যন্ত্রকারী তখন রাজার কান ভারী করেছিলেন মুসলমানদের বিরুদ্ধে।

শাহ সুজার হত্যা এবং কবি আলাওলের জেলে যাওয়া সম্পর্কে কবি আলাওল লিখেছেন ‘তার পাছে সাহা সুজা নৃপ কুলেশ্বর। দৈব পরিপাক আইল রোসাঙ্গ শহর। রোসাঙ্গ নৃপতি সঙ্গে হৈল বিসম্বাদ। আপনার দোষ হোস্তে পাইল অবসাদ। যতেক মুসলমান তান সঙ্গে ছিল। নৃপতির শাস্তি পাইল সর্বলোক মইল। মির্জা নামে এক পাপী সত্য ধর্মভ্রষ্ট। শালেত উঠিল পাপী লোক করি নষ্ট। যার সঙ্গে ছিল তার তিল মন্দভাব। অপবাদে নষ্ট করি পাইল নর্ক লাভ। মরণ নিকটে জানি ইচ্ছাগত পাপ। যেজনে করএ সেই নর্ক মাগে আপ। এজিদ প্রকৃতি সেই দাসীর নন্দন। মিথ্যা কহি কত লোক করাইল বন্ধন। আয়ুযুক্ত সব মুক্ত করিল অস্থানে। পাপরাশি ধর্মনাশি মরিল মৈল শাল স্থানে। বিনা অপরাধে মোরে দিল পাপ ছারে। না পাইয়া বিচার পড়িলুং কারাগারে। বহুল যন্ত্রণা দুঃখ পাইলুং কর্কশ। গর্ভবাস সম্পিল পঞ্চাস দিবস।’

কবি আলাওলের কাব্যে দেখা যায় শাহ সুজার নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি শাহ সুজাকেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন। শাহ সুজার বিরুদ্ধে কবি আলাওলের অভিযোগ বিষয়ে অনেক ইতিহাস গবেষকের প্রশ্ন রয়েছে। কারণ তিনি ছিলেন সভাকবি। সভাকবি হয়ে রাজার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সম্ভব ছিল কি না সেটি প্রশ্ন। তবে অনেকে কবি আলাওলের এ অভিযোগকে সত্য বলে মনে করেন। তাদের মতে শাহ সুজা আরাকানে আশ্রয় পাবার পর আরাকানের রাজা চন্দ্র সুধর্মাকে উৎখাতের জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। তখন রাজার প্রায় সব প্রধান কর্মকর্তা ছিল মুসলমান। শাহ সুজা এসব মুসলমানের আহ্বান জানান তার পক্ষ অবলম্বনের জন্য। তবে তারা শাহ সুজার পক্ষ নিতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত সঙ্ঘাতে সব অনুচরসহ নিহত হন শাহ সুজা।

শাহ সুজার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আরাকানের রাজশক্তির সাথে মুসলমানদের বিবাদ-সঙ্ঘাত শুরু হয়। ১৬৬১ সালে শাহ সুজার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শুরু হয় হাজার বছরের সমৃদ্ধ প্রাচুর্যে ভরপুর স্বাধীন আরাকানের পতনকাল। শাহ সুজার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারত, বাংলাদেশ ও আরাকানের মুসলমানদের মনে গভীর দাগ কাটে। রাজ্যে শুরু হয় তীব্র অস্থিরতা আর অশান্তি। ঘটে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে আরাকান সাম্রাজ্য। অনেক দিন পর আরাকানে আবার শান্তি ফিরে এলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ১৭৮৪ সালে বর্মিদের কাছে চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা হারায় আরাকান যা আজো তারা ফিরে পায়নি এবং শেষ পর্যন্ত সমৃদ্ধ আরাকানের রোহিঙ্গারা আজ রাষ্ট্রহীন নাগরিক, বিশ্বে সবচেয়ে হতভাগা সম্প্রদায়।

রাজা থদোমিস্তারের সময় মহাকবি আলাওল আরাকানে যান। থদোমিস্তারের রাজত্বকাল ছিল ১৬৪৫ থেকে ১৬৫২। কোরেশি মাগন ঠাকুর ছিলেন থদোমিস্তারের প্রধানমন্ত্রী। কোরেশি মাগন ঠাকুর রচিত চন্দ্রাবতীতে রয়েছে রসুল প্রশংসা। মাগন ঠাকুর ছিলেন প্রচার বিমুখ। তার কাব্যে নিজের কোনো পরিচয় নেই। মাগন ঠাকুরের পরিচয় রয়েছে কবি আলাওলের কাব্যে। সেখানে তিনি তাকে ছিদ্দিক বংশীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরব থেকে আগত সিদ্দিক বংশীয় মুসলমান ছিলেন। কুরাইশ থেকে তার নাম কোরেশী হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। আর কবি আলাওলের বর্ণনায় দেখা যায় মাগন ঠাকুরের বাবা অনেক দিন ধরে ছিলেন নিঃসন্তান। সে কারণে স্রষ্টার কাছে অনেক ভিক্ষা মেগে তিনি এক সন্তানের বাবা হন। সে কারণে সন্তানের নাম রাখা হয় মাগন। আর ঠাকুর ছিল তাদের পারিবারিক উপাধি। এ কারণে তার নাম হয় কোরেশী মাগন ঠাকুর।

ঘটনাক্রমে কোরেশী মাগন ঠাকুরের ওপর আরাকান শাসনেরও ভার পড়ে ১৬৫২ সালে। আরবি, ফার্সি, মঘী ও হিন্দুস্তানি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন তিনি। তার বাবাও ছিলেন আরাকানের সৈন্য মন্ত্রী। আরাকানে ইসলাম প্রচারেও কোরেশী মাগন ঠাকুরের নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। কবি আলাওলের কাব্যে তার উল্লেখ রয়েছে। ‘ওলামা, সৈয়দ, শেখ যত পরদেশী/পোষন্ত আদর করি বহু স্নেহবাসি।’

কোরেশি মাগন ঠাকুরের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ চন্দ্রাবতী আরাকানের রাজসভায় লিখিত। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। মহাকবি আলাওলের পদ্মাবতী রচিত হয় কোরেশী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায়।

বাংলাদেশের বর্তমান মাদারীপুরের ফতেহাবাদে জন্ম নেয়া কবি আলাওলকে মধ্যযুগের কবিদের শিরোমনি আখ্যায়িত করা হয়। বাংলা, আরবি, ফার্সি, সংস্কৃত প্রভৃতি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন তিনি।

১৫৩৫ সালে রাজা শ্রী সুধর্মার অভিষেক হয় আরাকানে। অভিষেক অনুষ্ঠানের বর্ণনা পাওয়া যায় পর্তুগীজ পর্যটক অগাস্টিন মঙ্ক সাবাস্টিয়ান মেনরিখের বর্ণনায়। মেনরিখ ছিলেন একজন ধর্মযাজক। তিনি যে চরম মুসলিমবিদ্বেষী ছিলেন তা ফুটে উঠেছে তার লেখায়। যেমন তিনি মদিনা শব্দের আগে ঘৃণিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। রাজদরবারের একজন প্রভাবশালী মুসলমানকে তিনি ভণ্ডপীর, ভণ্ড দরবেশ বলে উল্লেখ করেছেন। এ রকম মুসলিমবিদ্বেষী একজন পর্যটকের লেখায়ও ১৬৩৫ সালে আরাকান রাজার অভিষেক অনুষ্ঠানের যে বিবরণ পাওয়া যায় তাতে খুব সহজেই অনুমান করা যায় দীর্ঘকাল ধরে এ রাজ্যে মুসলমানদের মর্যাদা, প্রভাব প্রতিপত্তির অবস্থা।

মেনরিখ লিখেছেন, ‘শ্রী সুধর্মা রাজার একজন উপদেষ্টা আছেন যিনি ধর্মে মুসলান। এই ভণ্ড দরবেশ লোকটি নাকি রাজাকে বলত যে, তিনি রাজাকে অদৃশ্য ও অপ্রতিরোধ্য করে দিল্লি, পেগু ও সিয়ামের সম্রাটে রূপান্তর করে দিতে পারবেন।’

অভিষেক সম্পর্কে মেনরিখ লিখেছেন, ‘অনুষ্ঠানে মুসলিম ইউনিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কুচকাওয়াজের সূচনা হয় মুসলমান অশ্বারোহী বাহিনীর মাধ্যমে যার নেতৃত্বে ছিলেন জনৈক মুসলিম কমান্ডার। আর সেই ভণ্ডপীরটি রৌপ্যখচিত অলঙ্কারে সুশোভিত মখমলের সবুজ পোশাক পরিধান করে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাজানো সাদা একটি আরবীয় ঘোড়ার ওপর আরোহণ করে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের সর্বাগ্রে অবস্থান নেন। তার পেছনে ছয় শ’ অশ্বারোহী বাহিনী। এই বাহিনীর সৈন্যদের চোখে মুখে ভাসছিল ভণ্ডপীরের দেখানো স্বর্গের কল্পিত স্বপ্নের আনন্দ। সবার পোশাক ছিল সবুজ। তাদের গায়ের বাম কাঁধ হতে ঝুলছিল সবুজ রঙে আচ্ছাদিত ধনুক। বাম পাশে বাঁধা ছিল সুদৃশ্য তুনীর যার ক্রসবেল্ট হতে ঝুলছিল রূপার প্রলেপ লাগানো বাঁকা শমশের। সকল ঘোড়াকে সবুজ সিল্কের কাপড়ে সাজানো হয়েছিল।’

ইতিহাস গবেষকদের মতে মেনরিখের লেখায় বর্ণিত এই ভণ্ডপীর ছিলেন মূলত লস্কর উজির আশরাফ খান। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি মুসলমান। আরাকান রাজ দরবারে তার প্রভাব সম্পর্কে মেনরিখসহ পর্তুগিজদের কোনো ধারণাই ছিল না। ঘটনাক্রমে দীর্ঘ সময় আরাকান শাসন করেছেন আশরাফ খান। দৌলত কাজীর সতী ময়না লোর চন্দ্রানী কাব্যে বর্ণিত রয়েছে রাজা সুধর্মার অভিষেক অনুষ্ঠানের আগে রাজ জ্যোতিষ জানান ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মধ্যে মারা যাবেন রাজা। তাই তখন আরাকানের রাজ মাতা অভিষেক অনুষ্ঠান বাতিল করে সব ক্ষমতা লস্কর উজির আশরাফ খানের হাতে অর্পণ করেন এবং তিনিই রাজ্য পারিচালনা করেন।

আশরাফ খান ডাচদের কাছে চাল বিক্রির জন্য উচ্চ দাম নির্ধারণ করেছিলেন। সে কারণেণ তারা তার ওপর খ্যাপা ছিল বলে মনে করেন অনেক গবেষক। মহাকবি দৌলত কাজী আশরাফ খানের প্রভাব সম্পর্কে লিখেছেন, ‘ধর্মপাত্র শ্রীযুক্ত আশরাফ খান। হানাফি মাযহাব ধরে চিন্তি খান্দান। ইমান রতন পালে প্রাণের ভেতর। ইসলামের অলঙ্কার শোভে কলেবর।’

দৌলত কাজী আরো লিখেছেন ‘শ্রী আশরাফ খান লস্কর উজির। যাহার প্রতাপ- বজ্রে চূর্ণ অরি শির।’

১৬৬০ সালে যখন মোগল যুবরাজ আরাকানে যান তখন চন্দ্র সুধর্মা ছিলেন আরাকানের রাজা। রাজা চন্দ্র সুধর্মার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নবরাজ মজলিশ। তিনিই চন্দ্র সু ধর্মার অভিষেকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সম্পর্কে মহাকবি আলাওল লিখেছেন ‘হেন ধর্মশীল রাজা অতুল মহত্ত। মজলিশ ধর্মরাজ তান মহামাত্য। রোসাঙ্গ দেশত আছে যত মুসলমান। মহাপাত্র মজলিশ সবার প্রধান। মজলিশ পাত্রের মহত্ত গুণ এবে। নরপতি সবর্গ আরোহণ হৈল যবে। যুবরাজ আইশে যবে পাটে বসিবার। দণ্ডাইল পূর্বমুখে তক্তের বাহিরে। মজলিশ পরি দিব্য বস্ত্র আভরণ। সম্মুখে দণ্ডই করে দড়াই বচন। পুত্রবত প্রজারে পালিবে নিরন্তর। না করিলে ছলবল লোকের ওপর।’

এন এম হাবিব উল্লাহ তার রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস বইয়ে লিখেছেন, আরাকান তথা রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস মুসলমানদের গৌরবের ইতিহাস। রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস বিষয়ক জ্ঞান আমাদেরকে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন একটি জাতি হিসেবে ভাবতে উজ্জীবিত করবে।

বাংলা

শীত কথা

দুষ্ট চাঁদের মিষ্টি হাসি
শীতের প্রেকপ খুব বেশি।
এই সকালে উঠতে হবে
শীতে কেপে মরতে হবে।
পেটে ভাত দিতে গেলে
যুদ্ধ করেই বাঁচতে হবে।

….

এনামুল খাঁন

জানুয়ারি ১৭, ২০১৪ইং

Poem

কাকতালীয় কথা - ০১

রাত বাড়ে।
জটিলতা বাড়ে।
নোংরামী বাড়ে।
ভুলে যাওয়া ভুলগুলো মনে পড়ে।

….

এনামুল খাঁন

জানুয়ারি ১৬, ২০১৩ইং

Poem

রোহিঙ্গাদের আরাকান ও বাংলা সাহিত্য

রোহিঙ্গাদের আরাকান ও বাংলা সাহিত্য” শিরোনামে নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:৩০ এ প্রকাশিত।

লেখক: ড. ফজলুল হক সৈকত

কর্ণফুলী নদী পূর্বে আছে এক পূরী

বাংলা

চির বসন্ত

সংবাদপত্রে মাঝেমাঝেই বেশ অন্যরকম খবরে চোখ আটকে যায়। অন্যরকম বলতে আমরা যা দেখে আসি  সেই গতানুগতিক খবরের বাইরে কিছু  অসাধারণ ঘটনা। ছোট্ট খবর কিন্তু সারাদিন মনের অবচেতনে ঘুরপাক খেয়ে যায়। যেমন সেদিন পড়লাম ৯৮ বছরের  তরুণ অসম মনোবলের অধিকারী রাজ কুমার বৈশ্য এর  নালন্দা মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে  অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাওয়ার  গল্প। বয়স হার মেনেছে উদ্যমের কাছে।এই রকম বৃদ্ধ বয়সে যেখানে অধিকাংশ কেন, প্রায় সব মানুষই অশক্ত, গৃহ বন্দী,অসুস্থ বা দৃষ্টি শক্তি বা শ্রবণ শক্তি হীন হয়ে পড়ে  সেখানে এটা  যে কত বড় অসম্ভব কান্ড -হয়ত আমাদের চিন্তার ও বাইরে।

এর কিছুদিন পরেই পড়লাম  চিত্রতারকা সইফ আলি খান  এক সাক্ষাৎকারে  বলছেন,”আমরা বয়স বাড়ছে বলে বুড়োই না  বরং    পুরানো ধ্যানধারণা গুলোকে প্রানপনে  আঁকড়ে ধরে রাখতে গিয়ে একটা কাঠিন্য এনে ফেলি।এই কাঠিন্যই আমাদের বুড়িয়ে দেয়।  বরং নমনীয়তা থাকলেই ভাল।”   পড়ে  বেশ  লাগল । সত্যিই তো,  শুধুমাত্র বয়স বাড়ছে বলেই নতুন কিছুর সঙ্গে আড়ি করতে হবে কেন ? বরং সময়ের তালে তালে চলতে পারলে নিজেকে আর অচল পয়সা মনে হবেনা। এখন যাঁরা  বয়সে বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা ,তাঁদের মধ্যে কিছুদের যখন নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে  স্মার্টফোনে আঙুল চালাতে দেখি , তখন মনে মনে তারিফ না করে পারিনা।যদিও আমার পরিচিত পরিজনের মধ্যেই স্মার্টফোন নিয়ে এক ভয়ানক অ্যালার্জি লক্ষ্য করি।

সেদিন এক সত্তরোর্ধ  মারাঠী মাসিমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল।  খুব সাদামাটা মহিলা, প্রায়শই কোমর আর হাঁটুর ব্যথায়  জেরবার। সদ্য সদ্য মহিলা- ভ্রমণ দলের সঙ্গে একা গিয়ে ব্যাঙ্কক ঘুরে এসেছেন। পুত্র  পুত্রবধু নাতনী গেছে সম বয়সী বন্ধুদের সঙ্গে দুবাই ভ্রমণে। চমকে গেলাম যখন বললেন  সমুদ্রতীরে   হট এয়ার বেলুনে তিনি চড়ে ঘুরলেন।বলেই ফিক ফিক করে হেসে উঠলেন।  ভয় করল না? আমি জিগ্যেস করলাম । বললেন,  ডর কে কেয়া ফায়দা! বলেই হো হো করে হাসি। মাসিমার শিশু সুলভ নির্মল আনন্দের ভাগী হলাম। এই রকম  অ্যাডভেঞ্চার করার সাহস করতে পারলেন  হয়ত মনটা  এখন ও তরুণ বলেই ! তবে বলে রাখি  ইনিও কিন্তু স্মার্টফোনটা ব্যবহার করতে পারেন না।

একটা পরিবর্তন যেটা সাদা চোখে ধরা পড়ছে  তা হল  এই  আধুনিক সময়ের  প্রবীণ মানুষেরা গত চার দশক আগের প্রবীণদের তুলনায়   অনেক বেশী  সচল, সক্ষম এবং সুস্থ।   চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে যেহেতু গড় আয়ু বেড়েছে, শারীরিক  সক্ষমতাও বেড়েছে  তাই  আগে যে কাজটা অভাবনীয় ছিল সেটাও এখন সম্ভবপর হচ্ছে।  তাই বয়স টা এখন কোন কোন বিশেষ ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর  হয়ে দাঁড়াচ্ছে না । যারা আর্থিক ভাবে সচ্ছল, শারীরিক ভাবে সুস্থ  এবং সবচাইতে গুরুত্বপুর্ন- যাঁরা  পরিবার পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে মানসিক ভাবে আনন্দে আছেন বা খুশীতে আছেন তাঁরা অনেক কিছু করার কথা ভাবতে পারেন।নয়ত  এর কোনোটার অভাব বৃদ্ধ বয়সে একাকিত্বর দিকে ঠেলে দেয়।পারিবারিক সহযোগিতা থাকলে অনেক অক্ষমতাই কাটিয়ে ওঠা  অসম্ভব নয় কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলায় অনেকেই সেই হাত ধরবার মানুষদের কাছে পায়না।   প্রতিকুলতার সম্মুখীন আমরা  অবশ্যই সর্ব ক্ষেত্রে  সব বয়েসেই হয়ে থাকি,  এটাই জীবন। তবু  কাউকে কাউকে দেখে আমরা একটু সাহস সঞ্চয় করি।জীবন টাকে পরিপুর্ণ ভাবে উপভোগ করতে গেলে সুস্থ তো থাকতেই হবে আবার মানসিক বার্ধ্যক্যকে একটু দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। যযাতির  মত যৌবন  তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না! সেই চেষ্টা  করেও  লাভ নেই বরং  অভিজ্ঞ জনেরা   বলছেন  মনের যৌবন ধরে রাখতে গেলে নিজের অতীত বা সেই সময়কার  ধ্যান ধারণা কে  আঁকড়ে ধরে রাখলে চলবে না   বরং যা কিছু নতুন  তাকে  গ্রহণ  করার মন টা তৈরী করতে হবে। জীবন চর্যায় কিছু  ইতিবাচক পরিবর্তন কাম্য যেমন যথেষ্ট ঘুমাতে হবে কারণ  ঘুমটা ঠিকমত না হলে শরীরের সমস্ত কলকব্জাই বিগড়োতে পারে। বন্ধুবান্ধব আত্মীয় পরিজন যাদের সঙ্গ আনন্দদায়ক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে বা সময় কাটালে অনেক মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা যাবে।একটু শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি, রসনায় লাগাম,  পর্যাপ্ত জল খাওয়া এগুলোতো সুস্থ থাকতে দরকার হবেই তাই সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে বইকি। আর মনের আনন্দে যেন কোনো ভাঁটা না পড়ে সেটাকেও গুরুত্ব দিতে  হবে। যতদিন শ্বাস ততদিন আশ  এই কথাটি মনে রেখে বলি  বয়স এসে কড়া নাড়তে থাকুক না, মনটা থাকুক সবু্‌জ, প্রানবন্ত।

Bangla

যে অতীত সু চি মুছে ফেলতে চান

যে অতীত সু চি মুছে ফেলতে চান শিরোনামে প্রথমআলো পত্রিকায় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:১৯ এ প্রকাশিত।

লেখক: আলতাফ পারভেজ: সাংবাদিক ও গবেষক।

বার্মার সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মিন অং হ্লাইয়াং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে তাঁর দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন। আর ২৫ আগস্ট আরাকানে জেনারেল মিন অংয়ের বাহিনীর অভিযানের পরপরই দেশটির ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চি প্রথম যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের বার্মার নাগরিকত্ব অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

বাংলা