ট্যাগসমূহ » বাংলা কবিতা

দেয়াল

ওরা এমন কেন?
আমাদের সবকিছু কেড়ে নিতে চায়
কল্পিত প্রেয়সীও রক্ষা পায় না লোলুপ দৃষ্টি থেকে
ভাগ বসাতে চায় আবেগ-অনুভুতিতেও।

ওরা এমন কেন?
বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে সে কবেই
এখন চিন্তাজগতেও তালা লাগতে চায়
বানাতে চায় ওদের মতো সংকীর্ণমনা।

ওরা এমন কেন?
নিজের মতবাদ জোড় করে চাপিয়ে দিতে চায়
মুক্তমনে যাচাই করার সুযোগও দেয় না
ওরা আমার সামনে গড়ে তুলেছে অদৃশ্য দেয়াল।

শাহ্‌জাদা আল-হাবীব
১১.০১.২০১৮

মাগো, ওরা বলে | আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

মাগো, ওরা বলে – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

কুমড়ো ফুলে ফুলে

নুয়ে পড়েছে লতাটা,

সজনে ডাঁটায়

ভরে গেছে গাছটা,

আর, আমি ডালের বড়ি

শুকিয়ে রেখেছি—

খোকা তুই কবে আসবি!

কবে ছুটি?’
চিঠিটা তার পকেটে ছিল,

ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।
‘মাগো, ওরা বলে,

সবার কথা কেড়ে নেবে

তোমার কোলে শুয়ে

গল্প শুনতে দেবে না।

বলো, মা, তাই কি হয়?

তাইতো আমার দেরী হচ্ছে।

তোমার জন্য কথার ঝুড়ি নিয়ে

তবেই না বাড়ী ফিরবো।

লক্ষ্মী মা রাগ ক’রো না,

মাত্রতো আর কটা দিন।’
‘পাগল ছেলে’ ,

মা পড়ে আর হাসে,

‘তোর ওপরে রাগ করতে পারি!’
নারকেলের চিঁড়ে কোটে,

উড়কি ধানের মুড়কি ভাজে

এটা সেটা আরো কত কি!

তার খোকা যে বাড়ী ফিরবে!

ক্লান্ত খোকা!
কুমড়ো ফুল

শুকিয়ে গেছে,

ঝ’রে প’ড়েছে ডাঁটা;

পুঁইলতাটা নেতানো,—

‘খোকা এলি?’
ঝাপসা চোখে মা তাকায়

উঠোনে, উঠোনে

যেখানে খোকার শব

শকুনিরা ব্যবচ্ছেদ করে।
এখন,

মা’র চোখে চৈত্রের রোদ

পুড়িয়ে দেয় শকুনিদের।

তারপর,

দাওয়ায় ব’সে

মা আবার ধান ভানে,

বিন্নি ধানের খই ভাজে,

খোকা তার

কখন আসে! কখন আসে!
এখন,

মা’র চোখে শিশির ভোর,

স্নেহের রোদে

ভিটে ভরেছে।

বাংলা কবিতা

​আবার আসিব ফিরে | জীবনানন্দ দাশ

​আবার আসিব ফিরে

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়

হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;

হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে

কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁলছায়ায়;

হয়তো বা হাঁস হব — কিশোরীর — ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,

সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে-ভেসে;

আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে

জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;

হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;

হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;

রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে

ডিঙা রায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে

দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে।

বাংলা কবিতা

​বনলতা সেন-জীবনানন্দ দাশ

​বনলতা সেন

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধুসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‌‌‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে-সব নদী-ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন|

বাংলা কবিতা

অ্যাডাল্ট থিংকস: সজল আহমেদ এর কবিতা সমগ্র

মদখোর – মাগীবাজ

যাহা নিতম্ব তাহাই পাছা

মদ-মাগী আর আমি আগাছা

পল্লবের গন্ধেমাতম এক পরগাছা

মহুয়ার ডালে বসা এক শঙ্খচিল

ভালুক যোগসাজশ মহুয়ার লোভে

কবির পঙক্তি বাঁধা সুরার গেলাশে। 25 more words

সজল আহমেদ

তাকিও বৃষ্টি ফোটায়

যেদিন প্রথম শুনিয়েছিলাম গান
বলেছিলে তুমি আহা! কী সুর! কী সুধা!
আজও গায় আমি আনমনে
শোনে না কেউ, বলে না অমন করে
মনের কোণে তাই কী যেনো এক সুপ্ত ক্ষুধা।

জানি গলায় আমার নেই সুর তেমন
তবু তাই ছিলো তোমার কাছে সুধার মতোন।

নেই আজ তুমি, তোমার ঠায় আজ কবিতায়
হারিয়েছি তোমায়, আজ তুমি ছবি তাই!

আজও তুমিও কী খোঁজো আমায়?
তাহলে তাকিও বৃষ্টি ফোটায়।

আজিজুর রহমান দুলাল

ডুবুক তরী

কোমল হাতের নরম ছোঁয়ায় হৃদয় শুধু দোলে
স্বপ্ন নাও এ নতুন রুপে পালের হাওয়া তোলে।
তোমায় চোখের কৃষ্ণ তারা করে ছলছল
চোখের পানে রেখে চোখ হৃদয় টলমল।

কাঁপছে কাঁপুক ধরা নদী কাঁপতে থাকুক সবি
ডুবছে ডুবুক আমার তরী ভাসুক তোমার ছবি।
আসুক যতো বালা-মুসিবত, তুমুল তুফান ঝড়
তোমায় সখি কখনো আমি করবো না তো পর।

তুমি আমার প্রথম প্রেম,প্রথম ভালোবাসা
তোমায় ঘিরে সকল স্বপ্ন, বাঁচে সকল আশা।
তুমি আমার মনের মানুষ, মনে তোমার বাস
তুমি আমার গোপন প্রিয়া, আমার প্রাণের শ্বাস।

তোমায় নিয়ে ভাসাব আমি চির সুখের তরী
তুমি আমি দুজন মিলে ধড়বো সুখের দড়ি।
তুমি যদি পাশে থাকো সখি নিরবধি
তোমায় নিয়ে যাবো আমি শেষ অবধি।

১৫.১১.২০১৭
Sheikh Shahajada Al-Habib