ট্যাগসমূহ » বাংলা কবিতা

শিরোনামহীন - ৪

পৌরনিক গল্পের চাঁদমামা নিরুদ্দেশ।
…. বন-ঘুঘুদের নৈশ্য সংগীতে,
সময়ের নাড়ী ছিড়ে বেরিয়ে আসে নিদ্রাহীন কালসাপ
বাকসর্বস্ব মস্তিষ্কের ফসফসানিতে গন্তব্যহীন এইসব
হতাশাক্লিষ্ট সত্তা, শ্রীহীন মনের কঙ্কাল।

ঘুমন্ত প্রতিটি পারা হতে দেবতাদের নিঃসব্দ প্রস্থান আর
রক্তের নেকড়া দিয়ে মুছা অক্সিজেনের চুল্লির সাজ
পুরহিত বক্ষচারীর নিত্য চিৎকার ছাপিয়ে
অন্তরাত্না কাঁপিয়ে বেজে ওঠে মানবতার বাউলা গান।

ভুলে যাই আজন্ম কোলাহল, তৃণভোজী রাঙা প্রভাত
আমাদের বিশ্বাস, ভ্রুন-হত্যার খেলা খেলে
যে বাসর সাজাই, তাই নিয়ে আসবে কোন এক প্রদাহময় ভোর
মানবতার কফিনে আরো একটি পেরেক মারা হলে
রোদের গায়ে ভেসে ওঠে নষ্ট বেহুলার প্রতিচিত্র।

সত্যের পুরোহিত কেউ আর সাজায় না
আত্নশুদ্ধির মেলা….
জীবন বলতে এখন মৃতুর তাড়া
শূন্যে ভাসা পানকৌড়ির পালক আর হিংস্র শকুনের আড্ডা।

লেখকঃ হোসেন মৌলুদ তেজো
বইঃ অপ্রকাশিত।

হোসেন মৌলুদ তেজো

পিছুটান-আজম মোহাম্মদ

 স্থির দাঁড়িয়ে ছিলাম কাঁচের জানলার কাছে,
দূর আকাশে মেঘেদের আনাগোনায় চোখ রাখছি ,
আমি উদাসীন!
নিঃশব্দে কাঁচের ভাংচুর,
আমি তখনও উদাসীন!
বোবা টানেলের গলা ছিঁড়ে আলো… কানে বাজছে।
নিয়ম করে এই শহরের অলিগলি ধরে আমাদের বারান্দায় হেঁটে এসেছে রাত।
তখনো আকাশে এক ফালি চাঁদ হেসেছিল,
কি সুন্দর সেই হাসি!
মনে হলো পা টিপে টিপে কেউ এলো পিছনে;
ফিরে তাকাতেই লোডশেডিং :এই শহরের পরিচিত মেনে নেওয়া যন্ত্রনা।
আবার সম্মুখে অপলক তাকিয়ে আছি,
ভাবছি অতীতের কুটিরে যে স্মৃতিরা টাঙানো আছে তাদের কথা।
নিশ্চুপে চোখ ভিজে দুঃস্মৃতির প্রহারে।
এইমাত্র একটি তারা ছিটকে পড়ল!

কবিতা

উপেক্ষিত অপেক্ষা

যেখানে দিগন্ত কাঁদে অস্তিত্বহীনতার ভয়ে
অনন্ত আকাশ ঝুলে থাকে মাটিকে স্পর্শের তৃষ্না বুকে
অস্ত মোহে সুর্য যখন হারায় গোধুলির আবছায়ায়
তখনও দেখ মুসাফির আমি দারিয়ে তোমার জীবন রেখায়।

অবচেতন আমি অনাহুত স্রোতে আচ্ছাদিত অক্লান্ত পুরুষ
যখন জলপদ্নরা কাঁদে তোমাকে না দেখার যন্ত্রনাতে।

যেখানে সীমান্ত আঁকে তোমার নামে শিশিরের কাব্যসীমা
সিসিফাসের মতো অযথা বসে থাকি তোমার অস্তিত্বর খোঁজে
তোমার দীর্ঘায়িত করিডোরে আমার উম্মুখ অনিদ্রা ব্যর্থ হয়
পরাভুত এই মন যখন কাঁপে অসভ্য সভ্যতার আঁচরে।

তবুও দেখো বসে থাকি আমি ব্রজ্রের আমন্থনে
যখন আকাশ ছেড়ে বূষ্টিরা নামে তোমার ঠোট স্পর্শের কামনাতে।

যেখানে দাঁড়িয়ে আমি মুসাফির, মহাকাল আজ দাঁড়িয়ে স্থবির
বঞ্চিত পর্ব শেষে অষ্টাদশী প্রেমময় জনাকীর দল আঁধারে করে কিলবিল
শুরু হল তোমার পর্দা আয়োজন, তাই থেমে গেছে সন্ধ্যা আলাপন
আমার ভেজা দর্পনে দেখি, তোমার-আমার মাঝে শুন্যতার বালুচর।

মন্থর বাতাসে কুমারী নদীর জল ছুয়ে নিরব ইতিহাস গড়ে
যখন, আঁধারের কাছে সম্ভ্রম হারিয়ে সূর্য নামে সমুদ্র স্নানে।

লেখকঃ হোসেন মৌলুদ তেজো
বইঃ কবিতাটি অসংজ্ঞায়িত বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

হোসেন মৌলুদ তেজো

বাজার অর্থনীতি এবং তুমি

ভালোবাসার সবচেয়ে গোপন জায়গাটা যখন
উটে আসে বিস্লেষনী ছকে, অর্থনীতির মৌলিক চাহিদা-সূত্রে
তোমার শরীরের ক্ষুধা আর মনের প্রশান্তি দোল খায়
বানিজ্যের স্বচ্ছ-অস্বচ্ছ সম্পর্কের দোলাচলে……
তখন হঠাৎ, এই নব্য-নবাবরাই তোমার কাছে অভিজাত
কারণ……… তুমি অর্থনীতি অনেক ভালো বোঝ।

এই অভিজাত শ্রেণীই চাঙ্গা অর্থনীতির গতি নিয়ণ্থক
আভিজাত্য আর অর্থনীতির এই মধুর সম্পক………
তোমাকে তোমার রঙ্গিন আগামীর মনভোলা ছবি দেখায়
বাজার অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিকাশে তাই তুমি আজ
বিদেশী পণ্যের মত, আভিজাত্যের লোভনীয় তকমা।

নব্য-আভিজাত্যের এই দাপুটে নবাবরা টাকা দিয়ে সব কেনে
শুদ্ধ বিবেকের প্রশংসা করে, কিন্তু পছন্দ…… শেষ পর্যন্ত
বাজারমুখী অর্থনীতির ধণ্যাঢ্য নবাবের টাকার গন্ধ,
বিমুখ হয়ে তাই মুখ থুবড়ে কাদেঁ বঞ্চিত বিপন্ন ভালমানুষি
কারণ……… তুমি বাজার বেবস্থা অনেক ভালো বোঝ।

লেখকঃ হোসেন মৌলুদ তেজো
বইঃ কবিতাটি অসংজ্ঞায়িত বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

হোসেন মৌলুদ তেজো

প্রার্থনা তোমার তরে

গোধূলি অবসরে তোমার নিঃস্বাশ যখন বায়ুমুখী
গোয়ালান্দ নম্র পদে সন্ধ্যা আঁধার করি সমর্পন
ভালোবাসা বুনো হলেও কি আনবেনা শিহরণ?
আমার নিঃস্বাশ আজ উতপ্ত, মাপে নত জল।

তুমি যা দেখেছো তাতো সুপ্তকান্ড-রুপ সবই শরীরী
আমি হতে চেয়েছিলাম তোমার তপ্ত মরুর দস্যু বেদুঈন
আমিতো চাইনি সেই নিষ্টুর দিন-রাত্রি, রুদ্র মহাকাল
উর্ধ্ব বাহু, মাতাল শাখায় তবে কেন বর্ষার আকাল।

আমি কি তবে সেই মাতাল অশ্ব, যার খূরে ধুলির প্রলয়
চতুর্থ চতুষ্কে মাধবি স্বপন, রসের প্রত্যয়
কতটুকু বেধেছে ফেনা, বলো কপতি, বৈশাখ বিদায় সঘনে
আমিতো আধাপাকা আস্তাবল, সহসা আবছা-আধারে।

কামনা করি প্রার্থনা অবিরত, উপেক্ষিত মরনে
জমেছে মেঘেরা করছে মেলা, আমি জানি মেঘের গল্প
তোমার জীবন, ভালবাসাতো বাঁধাছাদা নিত্ত্য চলাচল
এ কবিতা দিলাম তোমার চরনে, শুধু একবার বলো পাগল।

লেখকঃ হোসেন মৌলুদ তেজো
বইঃ কবিতাটি অসংজ্ঞায়িত বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

হোসেন মৌলুদ তেজো

উদ্ভট ক্ষয়িত মায়াবী জীবন

অতঃপর ভেঙ্গে পড়ে সকল উচ্ছাস
আব্রু-আবরণ ফেলে নির্লজ্জ নগ্ন হয়ে
সামনে আসে স্বপ্নীল স্বরলিপি।

সংকীর্ণতাকে স্পর্শ করে হোচট খেলাম অদৃশ্য বাতাসে
বিন্দুর প্রভাব এভাবে রৌদ্রাভ আস্তরণ ঢেকে দেবে
যদি জানতাম……..
তাহলে আমিও পেতাম হিরম্ময় রেখায়িত জল।

শব্দের চাতুরীতে সম্পর্কের খসড়া রচনা
অযথা, অকারণ…… উচ্ছিষ্ট ভ্রুণের দিনলিপি শেষে
অবশিষ্ট থাকে শুধু
…….. নীল বোতাম….. উদ্ভট ক্ষয়িত মায়াবী জীবন।

লেখকঃ হোসেন মৌলুদ তেজো
বইঃ কবিতাটি অসংজ্ঞায়িত বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

হোসেন মৌলুদ তেজো

উপসংহার


এখনও সে গল্প হয়ে ঘুরে বেড়ায়,
এই শহরের কালো বাতাসে, কোলাহলে
শব্দের ধারাপাতে, নির্লিপ্ত নিরবতার দেয়াল হয়ে।
আর আমি আমার সব গল্পের পান্ডুলিপি ছিড়েঁ
নিজেকে খুজে বেড়াই তার গল্পের উপসংহারে।


অনাদিকাল  ধরে  চলছে  এই  চর্চা,
শেষের  কবিতার  বরফ  শীতল  সৌন্দর্য  থেকে  রক্তাক্ত  ট্রয়- নগরী
এই  একই  আবর্তে  চক্রাকার,  ইতিহাসের  বর্ণীল  পাতায়
আর  আমার  উপসংহার  ক্লেদাক্ত, কারনে-অকারনে  তার  আসা-যাওয়ায়।


রাত হাটে নিঃশব্দ পায়ে ভোরের দিকে
মিথ্যার কোলাহলে সত্য দিশেহারা,
ছন্দ-মাধুর্য ভুলে কবিতার সাথে গল্পের সখ্যতা
আমাদের এই অবাঞ্ছিত গল্পের উপসংহার জুড়ে
তার নিরুত্তাপ প্রহসনের থাবা আর আমার অশ্রুহীন কান্না।

লেখকঃ হোসেন মৌলুদ তেজো
বইঃ কবিতাটি অসংজ্ঞায়িত বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

হোসেন মৌলুদ তেজো