ট্যাগগুলি » ডাউনলোড

লাইলাতুল কদরের নিদিষ্ট থেকে অনিদিষ্টকরণঃ রহস্য ও পরিক্রমা

ইতিকাফ ও লাইলাতুল কদরের সীমাবদ্ধকরণঃ

লাইলাতুল কদরের নিদিষ্ট রাত্রিতে সীমাবদ্ধকরণে স্কলারদের থেকে ৪৬ অভিমত পাওয়া যায়। (ফাতহুল বারী ৪/৩০৫-৩১৪) ঠিক এমন আরেকটি বিতর্ক পরিলক্ষিত হয় জুমার দিনের অতি কল্যাণকর মহুর্তটি সম্পর্কে। এটি নিচক কোন বিতর্ক নয়; বরং এটি হচ্ছে গোটা মুসলিম মিল্লাত কতৃক মহিমাম্বিত এই  রাত্রি ও মহুর্তকে পাওয়া এবং অধিক কল্যাণকর রাত্রিকে পেয়ে অধিক ইবাদত করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে প্রতিযোগিতার বহিঃপ্রকাশ। রাসূল (সাঃ) এর যুগে রমযান বিধানের প্রাথমিকযুগে তিনি অহীর ইঙ্গিতে নিদিষ্টভাবে বিভিন্ন রাত্রিতে লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করতে বললেও পরবর্তীতে চুড়ান্তভাবে যখন নিদিষ্টভাবে বলতে চেয়েছেন ঠিক সেই মহূর্তে দুই সাহাবীর লাইলাতুল কেন্দ্রিক বিতর্ককে থামাতে গিয়ে তিনি (সাঃ) নিজেই ভুলে গিয়েছেন। (বুখারী ১৯১৯) এটি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই চুড়ান্ত ফয়সালা। কারণ রাসূল (সাঃ) নিজেই বলেছেন, “আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে”। প্রসঙ্গত দুই সাহাবীর বিতর্ক এটি লাইলাতুল কদরকে গোপন রেখে ঊম্মাতে মুহাম্মাদির ইবাদতে প্রতিযোগিতার গতিকে বেগবান করার জন্যই আল্লাহর তাআলার পক্ষ থেকে দুনিযাবী একটি কারণ মাত্র। এজন্য নিদিষ্ট তারিখে লাইলাতুল কদরের অস্তিত্বকে ভুলে যাওয়া এবং এই রাত্রির অন্বেষনে অনিদিষ্ট একাধিক রাত্রিতে ইবাদত করাকেই এই উম্মতের জন্য অধিক কল্যাণকর হিসেবে রাসুল (সাঃ) উল্লেখ করেছেন। (বুখারী ১৯১৯)।

একটি বিষয় জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, আজকে আমাদের দেশে লাইলাতুল কদর হলে আমেরিকা বা আরব দেশে লাইলাতুল কদর নয়। আবার অন্য দেশে যখন লাইলাতুল কদর তখন আমাদের দেশে লাইলাতুল কদর নয়। এটি রোযা শুরু করা ও শেষ করা, হজ্জের সময়সীমা এবং নামাজের সময়সীমা ইত্যাদির মতই। তাই স্বদেশীয় সময়ে নিদিষ্ট ইবাদত সম্পন্ন করাই একজন বুদ্ধিমান মুমিনের কাজ। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে রাসুলুল্লাহর গাইড লাইন অনুযায়ী ইবাদতে ব্রত হওয়া এবং আল্লাহর কাছ থেকে জীবনের চাওয়াগুলো চেয়ে নেয়া। আর সময়ের তারতম্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কিভাবে অনিদিষ্টভাবে লাইলাতুল কদর আসে তা বিশ্বস্রষ্টার জন্য খুবই সিম্পল ব্যপার। এটি কিভাবে সম্ভব এমন প্রশ্ন অনেক সনাতন। এই প্রশ্নের উত্তর রোযা, নামাজ, ও হজ্জ্বের সময়সীমা নির্ধারণের মধ্যেই রয়েছে। তাই অতি প্রাচীন ও সমাধানকৃত প্রশ্ন নতুন করে তুলে অতি মহিমামাম্বিত রাতের কল্যাণ থেকে একজন মুমিনকে বঙ্গিত করা শয়তানেরই পায়তারা। তাই এমন প্রশ্নের অবতারণা করে অহেতুক বিতর্কে আটকা পড়ে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অনর্থক ও অশোভনীয় মন্তব্য উচিৎ নয়। বরং বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে লাইলাতুল কদরের অস্তিত্বের লজিককে সময়ের স্রষ্টা আল্লাহ তাআলার উপর সোপর্দ করিয়ে ইবাদতে ব্রত হওয়াই একজন অনুগত মুমিনের দায়িত্ব। ইবাদতের মশগুলের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে অনিদিষ্ট তারিখে লাইলাতুল কদরের অস্তিত্বকে বৈজ্ঞানিকভাবে অনুধাবন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে বিশ্ব স্রষ্টার সৃষ্টিলীলাকে উৎঘাটন করে তাঁর মহিমা ঘোষণা করা এবং তাঁর সমীপে সিজদাবনত হওয়াই বিচক্ষন মুমিনের কাজ।

শয়তান মানুষের চিরশত্রু বিধায় তার অবিরত প্রচেষ্টা হচ্ছে মানুষকে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করা। কোন কল্যাণ থেকে সরাসরি বাধা দিতে না পারলে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাধিক কল্যাণকর বিষয় থেকে বঞ্চিত করে অন্য একটি কম গুরুত্বপূর্ণ ভাল কাজে তাকে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে। এখানেই মানুষের পদস্খলন এবং শয়তানের সফলতা। ইবনুল কাইয়্যেমের “তালবীসু ইবলিস” বইটিতে শয়তানের এমন প্রচেষ্ঠা ও কৌশল বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ লাইলাতুল কদর মুসলিম মিল্লাতের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ রাত যে রাতে মানুষ তার জীবনের সকল প্রয়োজন চেয়ে নেবে বিশ্বস্রষ্ঠা আল্লাহ তাআলা থেকে। জীবনের বিভিন্ন সময় ও ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে এই রাতের অবধারিত কল্যাণের প্রভাব অনেক বেশী। এখানেই শয়তানের মাথা ব্যথা। তাই এমন গুরুত্বপূর্ণ রাতের ব্যপারে বিভিন্ন ভুল ধারণা, বিতর্ক ও সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে এই রাত্রির গুরুত্ব কমিয়ে দেয়াই শয়তানের টার্গেট। ফলশ্রুতিতে না জেনে মানুষরা অনেক ভুল কথা ছড়ায় এবং অনেক অসমীচীন মন্তব্য করে থাকে যা ব্যক্তির ইমানের জন্য হুমকিসরূপ।

এই ছোট লিখনীতে খুব সংক্ষিপ্ত পরিসরে ইতিকাফের সময়সীমা, উদ্দেশ্য এবং লাইলাতুল কদরের ক্রমাগত সীমাবদ্ধকরণ বিশুদ্ধ হাদীসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হল।

ইতিকাফের সময়সীমা

১। রমযান ও ইতিকাফ বিধানের প্রাথমিক সময়ে রাসুল (সাঃ) রমযানের প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন।

২। পরবর্তী বছর রাসুল (সাঃ) রমযানের মধ্য ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন।

৩। এরপর স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেক রমযানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। (বুখারী ১৯১৬, মুসলিম ১১৬৯ )।

৪। এক রমযানে রাসুল (সাঃ) ইতিকাফ শুরু করলেন এবং আয়েশা (রাঃ) তাঁর সাথে ইতিকাফ করার অনুমতি নিয়ে তাঁবু খাটালেন। তাঁকে দেখে হাফসা (রাঃ) এবং যাইনাব (রাঃ) ও তাঁবু খাটালেন। পরবর্তী দিন সকালে রাসুল যখন সবগুলো তাঁবু দেখলেন এবং তাদের সম্পর্কে জানলেন তখন তিনি তাবুগুলো ঊঠিয়ে ফেলতে বললেন এবং সে বছর ইতিকাফ করলেননা। পরবর্তী মাসে তথা শাওয়াল মাসের প্রথম ১০ দিন (বুখারী ২০৪১) কিংবা অন্য বর্ণনা হিসেবে শাওয়াল মাসের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ কাযা করেছেন (মুসলিম ১১৭৩)।

৫। অন্য এক রমযানে রাসুল (সাঃ) সফরে ছিলেন বিধায় তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি। তাই পরবর্তী বছর ১০ দিন বেশী ইতিকাফ করেছেন।

৬। তাঁর জীবনের শেষ রমযানে শেষ ২০ দিন ইতিকাফ করেছেন। (বুখারী ১৯৩৯)।

ইতিকাফের উদ্দেশ্য

৩। ইতিকাফের উদ্দেশ্য হচ্ছে হাজার মাস চাইতে শ্রেষ্ঠ রাত্রি লাইলাতুল কদরকে খুজে পাওয়া।

৪। লাইলাতুল কদরকে খুজতে খুজতে ইবাদতের পরিমাণ যথাসম্ভব বৃদ্ধি করা।

৫। দুনিয়াবী যাবতীয় ব্যস্ততা ও চিন্তা থেকে নিজেকে যথা সম্ভব মুক্ত করে আল্লাহর দিকে রুজু করা এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা।

৪। পূর্ববর্তী উম্মতদের বয়স অনেক বেশী হওয়া সত্ত্বেও তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে আমাদের জান্নাতে প্রবেশে এগিয়ে থাকা।

৫। লাইলাতুল কদরকে খুজতে খুজতে রাসূল (সাঃ) উম্মতদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধ্যান করতেন। আমাদেরকেও এই সময়ে কুরআন নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।

৬। লাইলাতুল কদরকে কেন্দ্র করে শেষ দশ দিনের অধিক ইবাদত এবং আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের মাত্রা বৃদ্ধি করণ এবং অন্যান্য উম্মতদের সাথে প্রতযোগিতায় এগিয়ে থাকার প্রচেষ্টার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

৭। শুধু এক রাতে যদি লাইলাতুল কদরের অন্তর্নিতিত তাৎপর্য হত তাহলে শুধু বেজোড় রাত্রি ইতিকাফ করলেও চলত। কিন্তু রাসূল সাঃ ১০ দিনেই ইতিকাফ করেছেন।

লাইলাতুল কদরের নিদিষ্টকরণ থেকে অনিদিষ্টকরণ এবং এর অন্বেষণ

রমযান বিধানের শুরু থেকে রাসূল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি লাইলাতুল কদরের বিভিন্ন সময়সীমা এবং নিদিষ্টভাবে বিভিন্ন দিনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ক্রমাগতভাবে লাইলাতুল কদরকে স্বল্প সময়সীমা এবং নিদিষ্ট দিনে উল্লেখকরণ পরিলক্ষিত হয়।

১। শেষ ২০ দিনে লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করার জন্য ইতিকাফ করেছেন (বুখারী ৭৮০)।

২। শেষ ১৫ দিনে তথা রমযানের দিত্বীয়ার্ধে লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করতে বলেছেন (তাবারানীর রেওয়ায়াত)।

৩। শেষ ১০ দিনে লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করতে বলেছেন (বুখারী ১৯১৬, মুসলিম ১১৬৯ )।

৪। শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাত্রিতে (বুখারী ৭৮০, ২০১৭)।

৫। শেষ ৭ দিন (বুখারী ১১৯১, মুসলিম ১১৬৫, আহমাদ ৫৪৮৫)।

৬। ২১ তম, ২৩ তম এবং ২৫ তম রাত (বুখারী ১৯১৭)

৭। ২৩ তম এবং ২৯ তম রাত (বুখারী ১৯১৮)

৮। ২৫ তম, ২৭ তম এং ২৯ তম রাত (বুখারী ১৯১৯)

৯। ২৩ তম এবং ২৭ তম রাত (মুসনাদ আহমাদ ২৫৪৩, সহীহ।

১০। ২৭ তম রাত (তাবারানী, সহীহুল জামি ১২৪০ )

১১। ২৯ তম রাত (ইবনু খুযাইমাহ, সহীহুল জামি ২১৮৯)

১২। রাসুল (সাঃ) তাঁর জীবনের শেষ দিকে লাইলাতুল কদরকে নিদিষ্ট কোন রাতে হয় তা বলতে গিয়ে তিনি ভুলে গিয়েছেন (বুখারী ৭৮০, ১৯১৯)।

এটিই ছিল আল্লাহ্‌ তাআলার প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্ত লাইলাতুল কদর ও ইতিকাফের অন্তর্নিহিত মহৎ উদ্দেশ্যের কারণে।

লক্ষনীয় দিকসমূহ

১। রমযান বিধানের প্রাথমিক পর্যায়ে নিদিষ্ট দিনে লাইলাতুল কদরকে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে চুড়ান্তভাবে নিদিষ্টকরণকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে সীমাবদ্ধকরণের প্রতিটি পর্যায়েই লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করতে বলা হয়েছে।

২। রাসুল (সাঃ) বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিধি ও দিনে লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করতে বলেছেন কারণ একেক বৎসর একেক রাত্রে কদর হয়।

৩। ৫ রাত্রি তথা শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাত্রির কথা বলেও নিয়মিতভাবে পুরো ১০ দিনই ইতিকাফ করেছেন।

৪। রমযানের শেষ ৭ দিনের মধ্য লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করতে বলেও পুরো ১০ দিনই তিনি (সাঃ) ইতিকাফ করেছেন।

৫। বিভিন্ন বছর ও সময়ে নিদিষ্ট দিনে লাইলাতুল কদর হবে বলেও পুরো ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন।

৬। তার জীবনের শেষ রমযানে ২০ দিন ইতিকাফ করেছেন। (বিশুদ্ধ হাদীস)।

৭। কখনও ইতিকাফ মিস করলে তার কাযা করেছে পরবর্তী মাস কিংবা বছরে।

৮। রমযানে শেষ দিকে লাইলাতুল কদরের সীমাবদ্ধকরণের পূর্ব পর্যন্ত রমযানের প্রথম ভাগে এবং মধ্যভাগে ইতিকাফকালে পুরো ১০ দিনই তিনি (সাঃ) ইতিকাফ করেছেন।

৯। লাইলাতুল কদরকে যদি নিদিষ্ট করে দেয়া হয় তাহলে অন্বেষণের কোন প্রয়োজন নাই। এই রাত্রি কেদ্রিক এই উম্মাতের ইবাদতের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয় রক্ষা করা হতনা ফলে জান্নাতে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় এই উম্মত পিছিয়ে পড়ত। (ইবনে হাজার আল-আসকালানী, ইবনুল কাইয়্যেম, ফখরুর রাযী, আলুসী প্রমুখ)।

১০। সুতরাং সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিতে কদর হবে। (ইবনে হাজার আল-আসকালানী)। এটি একেক বছর একেক রাতে আসে। তাই বেজোড় ৫ রাতে কদরকে অন্বেষন করার জন্য শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করাই বুদ্ধিমান মুমিনের কাজ। ইতিকাফ সম্ভব না হলে অন্তত ৫ বেজোড় রাতেই সারাটা রাত ইবাদত ও গবেষায় থাকা প্রয়োজন।

১১। এই ১০ কিংবা ৫ রাত্রিতে অবশ্যই মাগরিব, ইশা এবং ফজর সালাত জামাতে আদায় জরুরী। কারণ ইশা ও ফজর সালাত জামাতে পড়লে সারা রাত্রি ইবাদতের মর্যাদা সরূপ এই রাত্রির মূলধন অর্জিত হবে। এরপর কিয়াম, তাহাজ্জুদ, তাসবীহ, তিলাওয়াত সব মূলধনের সাথে বোনাস হিসেবে যুক্ত হবে। তাই মূলধন হারালে বোনাস কতটুকু কাজ দিবে তা মাথায় রাখা উচিৎ।

১২। লাইলাতুল কদরের নিদিষ্ট তারিখ পূর্ব থেকে জানা সম্ভব নয়। তবে রাসুল (সাঃ) এই রাত্রির কিছু আলামত বর্ণনা করেছেন এবং এই রাত্রিকে পেলে নিদিষ্ট দোয়া পড়তেও আয়েশা (রাঃ) শিখিয়েছেন। এটি ছিল এই রাত্রির চুড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণের পূর্বে। চুড়ান্তভাবে অনিদিষ্ট সময়সীমা করা হলেও প্রতি বছর ভিন্নভাবে রাসূল (সাঃ) এর বর্ণনাকৃত আলামতের মাধ্যমে শুধুমাত্র কদর রাত্রিতেই অনুধাবন করা সম্ভব যে এটি কদরের রাত। কিন্তু এই রাত্রি আসার পূর্বে নিদিষ্টভাবে জানা সম্ভব নয়। এটি ইমাম নবুবী এবং মাম ত্বাহাবীর অভিমত। (ফাতহুল বারী ৪/ ৩১৩)।

১৩। যেকোন ধরণের গল্প বা সময় নষ্ট কিছুতেই করা যাবেনা। যদি ইবাদত করতে করতে কেউ ক্লান্ত হয়ে যায় তাহলে সে চুপ থাকবে এটিও ইবাদত। কিন্তু গল্প বা কথা বললে অতীব মর্যাদার সময়ে গুনাহ হয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশী।

১৪। তাহাজ্জুদ, ইতিকাফ, কিয়ামুল লাইল, লাইলাতুল কদরের উযযাপন এবং অনুভুতি নিয়ে যে কোন ধরণের স্ট্যাটাসের মাধ্যমে রিয়া থেকে নিজের আমলে মুক্ত করে এক আল্লাহর জন্য একনিষ্টভাবে ইবাদত করা ও চিন্তা চেতনায় ব্যস্ত থাকাই একজন মুমিন ও মু’তাকিফের কর্তব্য।

১৫। ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস বিশেষত স্মার্ট ফোন এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্ক থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা জরুরী। আল্লাহ আমাদের লাইলাতুল কদরের মর্যাদা দান করুন এবং আমাদের সবাই জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন। আমীন।

ডাউনলোড

ফ্রিতে ডাউনলোড করে নিন সেরা ৫টি Video Player অথবা Media Player

“>
» 14 ঘন্টা 31 মিনিট আগে :: 29 May, 2017 10:33 pmঅনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
» 15 ঘন্টা 29 মিনিট আগে :: 29 May, 2017 9:36 pmMy Tuner PageMy Tune RSSSponsored Tunes Ads by Techtunes – tAdsরকমারি MEGA FUNDAY, কেউ যাবেনা খালি হ্যান্ডে!!!লাভা ল্যাম্পের অসাধারণ সৌন্দর্য মিস করাটা কি ঠিক হবে?কে এই থেমিস? 77 more words

আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) দোয়াঃ দরিদ্রতা বনাম দরিদ্রতামুক্তি

ইসলাম দরিদ্রতামুক্ত হয়ে সম্পদ অর্জন করতে মানুষকে নানাভাবে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু অধিকাংশ ম আরবী ভাষার অর্থগত বৈচিত্র ও ব্যপকতা না বুঝে কুরআন ও হাদিসের অর্থ ভুল বুঝে থাকে, ভুলটাই মানুষের মাঝে প্রচার করে এবং ভুল দিকেই মানুষকে নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এর একটি উদাহরণ হচ্ছে নিম্মোক্ত হাদিসে উল্লেখিত মাসকানাহ শব্দটির অর্থ এবং হাদিসের ভুল উদ্দেশ্য। অধিকাংশ মানুষ নিম্মোক্ত হাদীসটির অর্থ ভুল বুঝে মানুষকে অধিক সম্পদ অর্জন থেকে নিরোৎসাহিত করে থাকে। এটি কোন প্রামাণ্য হাদিস নয়। কারণ এটি একটি দুর্বল হাদিস এবং এর অর্থ ভিন্ন।

ডাউনলোড