ট্যাগসমূহ » উপন্যাস

কুহেলিকা – ০১

নারী লইয়া আলোচনা চলিতেছিল। …

তরুণ কবি হারুণ তাহার হরিণ-চোখ তুলিয়া কপোত-কূজনের মতো মিষ্টি করিয়া বলিল, ‘নারী কুহেলিকা’।

যেস্থানে আলোচনা চলিতেছিল, তাহা আসলে ‘মেস’ হইলেও, হইয়া দাঁড়াইয়াছে একটি পুরোমাত্রায় আড্ডা। 2,769 more words

কুহেলিকা

বিচ্ছিন্নতার দহন

উনবিংশ শতাব্দীর মাঝখানে ফিওদর মিখাইলেভিচ দস্তয়েভস্কি তার ছোট্ট উপন্যাসিকা নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ডে রোপণ করেছিলেন বিশেষ এক চিন্তাধারার বীজ, অস্তিত্ববাদ। আজ আমরা জানি, পরের দেড়শো বছরে চিন্তার ওই স্রোত ছড়িয়ে গেছে অ্যান্টিবায়োটিকের মতো। বিংশ শতাব্দীর উপন্যাসের জগতে অস্তিত্ববাদ কতটা প্রভাব রেখেছে, কিংবা সাত্রে বা কাম্যু থেকে শুরু করে আমাদের ওয়ালীউল্লাহ পর্যন্ত কীভাবে নেড়েচেড়ে দেখেছেন অস্তিত্ব নিয়ে গল্পের নায়কের ভীষণ সংকটমুখর জীবনযাপনকে; সে সব বিষয়েও বহু আলোচনা হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। কিন্তু সত্য কথাই হচ্ছে নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ডের কাছে পুনরায় ফিরে এসে গিয়ে সাহিত্য জগতে এই উপন্যাসের প্রভাব বিস্তার বিষয়ে ঠিক মন দিতে পারিনি। বরং, একবিংশ শতাব্দীর ঢাকা শহরের পথে যেমন সকল লোকের মাঝে বসে নিজস্ব মুদ্রাদোষে আমার যেমন নিজেকে কেবলই আলাদা, ক্ষুদ্র আর অকিঞ্চিৎ মনে হয়; সেই একই দশা আমি এই উপন্যাসে দেখতে পেয়েছি সেন্ট পিটার্সবাগের রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে অজ্ঞাতবাসে যাওয়া লোকটির। মনে হয়েছে, নিজের ভেতর আমার অজস্র অনাবিষ্কৃত স্বরকে দস্তয়েভস্কি ভাষা দিয়েছেন এই ছোট উপন্যাসিকায়। লক্ষ করেছি বিস্ময়ে; মানুষ, মানুষের সমাজ আর এদের পারষ্পরিক মিথস্ক্রিয়া সংক্রান্ত নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ আজ অ্যাতো বছর পরেও অক্ষয়, সার্বজনীন। 932 more words

বই আলোচনা

অপেক্ষা

আমার বৈশাখ কাটে তোমার অপেক্ষায়
#কেশবতী

উপন্যাস

রঙের মাঝে রক্তপাত

এলোপাথাড়ি ভাবে সহস্র বই পড়বার চাইতে ভালো লেগে যাওয়া কোনো লেখকের হাতে গোণা কয়েকটা বই পড়াও ভালো, এই সত্য আবিষ্কার করতে জীবনের অনেকটা সময় অপচয়িত হয়ে গেছে আমার। ইদানিং তাই ফুলের বনে যার পাশে যাই, চেষ্টা করি তার সমস্ত সুবাস এমনকি পচা গন্ধও ঠিকভাবে আত্মস্থ করতে। সে অভ্যাসেই আমার আতস কাঁচের নিচে সম্প্রতি এসে দাঁড়িয়েছেন তুরস্কের ওরহান পামুক। ছেষট্টি বছরে দাঁড়িয়ে থাকা পামুক, বলাই বাহুল্য, এ মুহুর্তে নিজ দেশের সবচাইতে সবচেয়ে নামজাদা ঔপন্যাসিক। প্রাচ্যের লেখকদের ক্ষেত্রে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেয়াটা নানা কারণে কঠিন। পামুকের ক্ষেত্রে সুবিধা ছিলো স্বনামে খ্যাতিমান হয়ে ওঠার পূর্ব পর্যন্ত তাকে জীবিকার জন্য লিখতে হয়নি। রেলশিল্পে পয়সা কামানো এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্ম নেয়া ওরহান পামুক পড়াশোনা করেছেন প্রকৌশলবিদ্যা, স্থাপত্য আর সাংবাদিকতায়; কিন্তু ওসবের কোনোটাতেই না গিয়ে তিনি বরং পালটে দিয়েছেন তুরস্কের উপন্যাসের গতিপথ। মাই নেইম ইজ রেড, এই নোবেল জয়ী লেখকের সামর্থ্যের উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। 1,065 more words

বই আলোচনা

দক্ষিণ মৈশুন্ডি কিংবা ভূতের গল্লিতে মানবেরা একা একা হাঁটতে থাকে (6)

৬- বেনী-আসহ-কলা

বন্ধের দিন, মোহাম্মদ শহীদুল হক সাবের অফিস ছুটি। উনি বারান্দায় বসে চা খান, শাহ আলম পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। শহীদুল হক সাব শাহ আলমকে জিজ্ঞাস করেন সে কিছু চায় কিনা- শাহ আলম ছুটি চায়। শহীদুল হক সাব শাহ আলমকে তিন দিনের ছুটি দিয়ে দেন। তোমারে তিন দিনের ছূটি দিলাম, বল কী জন্য? 841 more words

দক্ষিণ মৈশুন্ডি কিংবা ভূতের গল্লিতে মানবেরা একা একা হাঁটতে থাকে (5)

৫। ভাদাইম্যা মিজান

শেফালিকে দূর থেকে দেখে মকবুলের মা , কাছে আসতেই বলে-‘উদলা হয়া গেছিলা কই? মাইয়্যা মানুস ঘোমটা ছাড়া ঘর থন বাইর হয় নিকি?’ শেফালি বিব্রত হয়, ভুলে যায় শাশুড়ির কথা। মকবুলের মা বলে উঠে-‘ তোমার চলন বলন আরো ঠিক কর বউ, আমার পোলা সামনের বছর হজ্বে যাইব নিয়ত করছে, হাজ্বি সাবের বিবি তুমি, ঠিক কইছি না!’ শেফালি ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেয়। আসলেই শেফালি তো এখন সাহেরা আপার বান্ধা কাজের মেয়ে না, এই বাড়ির বউ। মকবুল এই এলাকার নামিদামি মানুষদের একজন। সে প্রথম প্রথম বুঝতে পারে নাই, এখন যখন আসে পাশে যায়, প্রতিবেশিদের সাথে মিশে তখন জানতে পারে সবাই, বিশেষ করে কসাইভিটা,লালবাগ, জিঞ্জিরা এলাকার লোক মকবুলকে কত মান্য করে। কসাইভিটার প্রত্যেক ঘরে ঘরে মকবুলের কৃতজ্ঞতার জন্য দোয়া করা হয়, ঘরে ঘরে মকবুলের দেয়া কিছু না কিছু থাকে। শেফালি শুনে আর অবাক হয়, নিজেকে ভাগ্যবান ভাবে। … 830 more words